Blog

Read our blog and share it
if you think it is helpful.

  • মাদকসেবী সদস্যদের চিকিতসা শেষে অভিভাবকরা কী করবেন?

    Posted on Jan 14 2012  |  By : Sheikh Heera  |  Cetegories : Miscellaneous, Rehabilitation  |  1 Comment

    মাদক পরিবার থেকে ব্যক্তিকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। তার সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ক্ষেত্রে গড়ে ওঠে অস্বসি-কর দেয়াল। এমনকি চিকিতসা শেষে সে চাইলেও তার একার পক্ষে চট করে এ দেয়াল আর ভাঙ্গা সম্ভব হয়না। তাই অভিভাবকসহ পরিবারের আর সব সদস্যকেই এক্ষেত্রে বেশী করে এগিয়ে আসার দরকার হয়। মনে রাখা দরকার, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রিকভারীর পক্ষে একা একা মাদকের মত ভয়ঙ্কর সমস্যাকে মোকাবেলা করা সহজ নয়। পরিবারের যৌথ প্রচেষ্টাতেই একজন রিকভারীর পক্ষে মাদকবিহীন নতুন জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলা সম্ভব।

    এখানে পরিবারের বন্ধুত্বপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ অভিভাবক ও অন্যান্য সদস্যরা কিভাবে গড়ে তুলতে পারেন সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

     

    বন্ধুত্বপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তুলুন

     

    নিয়মিত খোঁজ খবর রাখুন

    আপনার পরিবারের সদ্য নেশামুক্ত সদস্যটি কেমন আছে, তার কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করুন। তার অনুভূতি জানতে চান। এটি নিয়মিতভাবে করুন। শুরুতে সে খানিকটা অস্বসি-বোধ করতে পারে, তবে আপনার অকৃত্রিম আগ্রহে একসময় সহজ হয়ে উঠবে। দীর্ঘ দিনের অনঅভ্যস-তার দরুণ অনেক অভিভাবক এরকম উদ্যোগের ক্ষেত্রে নিজেরাই আঢ়ষ্টবোধ করেন। এই আঢ়ষ্টতার দেয়াল ভেঙ্গেই ফেলুন। আপনার এ উদ্যোগে সে তার জীবনকে নতুনভাবে সাজাতে উতসাহী হয়ে উঠবে, আর বাড়ীতেও বইবে স্বসি-র সুবাতাস।
    বলে রাখা ভালো, কোন কোন অভিভাবক খোঁজ খবরে এতটাই উৎসাহী হয়ে উঠেন যে, সার্বক্ষণিকভাবে গোয়েন্দার মত পেছনে লেগে থাকেন। এ ততপরতা রিকভারীকে হতাশ করে তুলবে সন্দেহ নেই।

    গড়ে তুলুন আলাপচারিতার পরিবেশ

    আপনার পরিবারের মাদকনির্ভরশীল সদস্যটি চিকিতসা শেষে এখন নেশামুক্ত। তাকে ঘিরে বিপর্যস- হয়ে পড়া গোটা পরিবারের স্বাভাবিক আবহকে ফিরিয়ে আনার জন্য আরেকটি উদ্যোগ নিন, পরিবারে গড়ে তুলুন আলাপ-গল্প, হাসি-ঠাট্টার সহজ ও আনন্দঘন পরিবেশ। দূর করে দিন অস্বসি-কর, গুমোট-আঢ়ষ্ট আবহ।
    খাবার টেবিলে একসঙ্গে গল্প করতে করতে খান, সবার পছন্দের টিভি চ্যানেল একসঙ্গে বসে দেখুন, হালকা বিষয় নিয়ে সবাই মজায় মেতে উঠুন। দেখবেন তার ঘর-ছাড়া স্বভাব কেমন বদলে গেছে। ঘরকে ধীরে ধীরে সে কেমন আপন করে নিয়েছে। বলাবাহুল্য, শুধু রিকভারী কেন, পরিবারের সবার মানসিক স্বাসে’র জন্য এরকম পরিবেশ অপিহার্য।

    দায়িত্ব দিন

    পরিবারের ছোট-খাট নানা ধরনের কাজ থাকে, সেসবে তাকে আগ্রহী করে তুলুন। বেশী টাকা পয়সার সঙ্গে জড়িত কাজ অবশ্য শুরুতে তাকে দিবেন না, কটা মাস জেতে দিন। শরীর-মনের দিক থেকে অতিরিক্ত চাপ হয় এমন কাজও আপাতত বাদ দিন। দেখবেন রিকভারী সদস্য দায়িত্ব পেয়ে বেশ চনমনে হয়ে উঠেছে। আর ফিরে পেতে শুরু করেছে আত্মবিশ্বাস-আত্মমর্যাদাবোধ।

    মতামতের সুযোগ

    শুধু তার নিজের বিষয়ে নয়, পরিবারের যেকোন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় তাকে ডাকার কথা ভাবছেন? ডেকেই ফেলুন। আশা করি আপনি নিরাশ হবেন না। আশ্চর্য হয়ে দেখবেন বাস-বসম্মত সিদ্ধান- দিতে সে-ও কম নয়। পরিবারের জন্য নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে সে শুরু করবে। মাদকনির্ভরশীল ব্যক্তির পুনর্বাসনের জন্য এটা খুব দরকার।

    স্বীকৃতি দিন মন খুলে

    ব্যক্তির নেশার ইতিহাস কেবল পিছিয়ে পড়ার ইতিহাস। নেশা এতদিন তাকে সব ভুলিয়ে রাখতো। নেশা ছেড়ে দিয়ে উপলব্ধি করে, কত পিছিয়ে পড়েছে সে। শুরু হয় হতাশা। এই হতাশা কখনো কখনো এত তীব্র হয় যে, জীবনে সবকিছু ভুলে থাকতে আবারো সে নেশার দারস’ হয়। এসময় পরিবারের ঘনিষ্ট মানুষরা তাকে সত্যিকারের সাহায্য করতে পারেন। তার ছোট ছোট অর্জনকে স্বীকৃতি দিন। ভালো দিকগুলোর প্রশংসা করুন। বলুন যে, সে যে এখন নেশামুক্ত তাতেই আপনারা খুশী। তাকে সাহস দিন। বলুন, ধৈর্য্য ধরে এগিয়ে যেতে, আপনারা তার সঙ্গে আছেন। পরিবারের সকলের প্রতি গভীর মমত্ববোধ এতে সে অনুভব করবে।

    অতীত নিয়ে অনুযোগ

    নেশা নেবার সময় পরিবারে তার উতপাত আর যন্ত্রণা দেয়া উদাহরনগুলিকে নেশামুক্তির পরও কোন কোন অভিভাবক বার বার তার সামনে টেনে নিয়ে আসেন। তাদের ধারনা পরিবারের রিকভারীটি এতে ঠিক ‘ট্র্যাকে’ থাকবে। কিন’ এতে হিতে বিপরীত হবারই সম্ভাবনা। বার বার অতীতের এসব উদাহরণ তার সামনে আস্‌লে তার মনে হবে পরিবারে এখনো সে সেই আগের ধিকৃত মানুষ। এতে সে খুব মুষড়ে পড়তে পারে, হারিয়ে ফেলতে পারে সুস’ নেশামুক্তির উৎসাহ। নেশামুক্ত জীবন আর তার কাছে বিশেষ তাতপর্য বহন করেনা। এধরনের ক্রমাগত অনুযোগ পরিবারের প্রতি তাকে বীতশ্র্‌দ্ধ করে তুলতে পারে। এমনকি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে নেশার জীবনে।

    সন্দেহ বনাম বিশ্বসী দৃষ্টি

    উদ্বিগ্ন অভিভাবকের অনেকেই চিকিৎসা শেষ হতেই রিকভারীকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেন। একটু এদিক ওদিক হয়েছে কি, ওমনি প্রশ্ন, “তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন? … তোমার চোখ লাল কেন? .. আবারো কি.. ?” অনেকে এমন বেমক্কা প্রশ্ন করেন না সত্যি, কিন’ কেমন একটা সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকেন। এতেই যথেষ্ট, রিকভারী যা বোঝার ঠিকই বুঝে যায়। একজন রিকভারী যখন ভাল থাকার জন্য সংগ্রাম করছে, বারংবার এরকম অহেতুক সন্দেহে সে-কি ভেঙ্গে পড়বে না। তার কেবলই হয়তো মনে হবে – তাহলে ভাল থেকে লাভ কি! এরকম ভাবনা ঘটনাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে ভেবেছেন কি?
    আপনি বরং বিশ্বাস দিয়েই শুরু করুন। আপনি তাকে বিশ্বাস করছেন এটা বুঝলে আশা করা যায় সে বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবে। আর সন্দেহের সমস্যা হচ্ছে, একবার সন্দেহ দিয়ে শুরু করেছেন কি এটা আপনাকে পেয়েই বসবে। সহজে সন্দেহ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। আপনার স্বসি- বলে আর কিছু থাকবেনা। আর সন্দেহের দরকারও নেই। নেশা যদি সে শুরুই করে, দিবালোকের মত অচিরেই তা সাদা চোখে ধরতে পারবেন। তবে সে নেশা করছে এটা নিশ্চিত বোঝা গেলে অবস্যই তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করুন।

    বিনোদন নিয়ে ভেবেছেন কি?

    মানসিক প্রশানি-র জন্য সবারই বিনোদন প্রয়োজন। তেমনিভাবে নেশা থেকে বিনোদন নেয়া ব্যক্তির জন্য নেশা ছাড়ার পর নতুন বিনোদন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। বিনোদন ছাড়া একঘেঁয়েমী জীবন তাকে আবার নেশার বিনোদনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
    পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এখানে খুব ভাল ভূমিকা রাখতে পারেন। পরিবারের সকলে মিলে বেড়িয়ে আসুন কাছে ধারে কোথাও সম্ভব হলে দূরে কোথাও কোন প্রাকৃতিক পরিবেশে অথবা তাকে নিয়ে ঘুরে আসুন অন্য কোন বিনোদনমূলক স’ানে-যেখানে তার পছন্দ।
    সবাই একসঙ্গে বসে ঘরে বা বাইরে সহজে একসাথে করা যায় এমন বিনোদনের পরিকল্পনা করুন। অনেক সময় অনেকের শখের অনেক কিছু সংগ্রহের অভ্যেস থাকে। বিনোদনের খোরাক হিসেবে সেটা মন্দ নয়। আপনার পরিবারের রিকভারী সদস্যের সেরকম শখের কিছু থাকলে যদি সম্বব হয় তাকে উৎসাহিত করুন।
    বিনোদনের তৃষ্‌ঞা পারিবারিক পরিমন্ডল থেকে অনেকটাই যদি মিটে যায় তবে তাকে আর বাইরে খুব বেশী ছুটা-ছুটি করতে হয় না। তবে অনেক বিনোদনের সঙ্গে নেশার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংস্রব রয়েছে (যেমন, জুয়া), সেগুলোকে সযত্নে এড়িয়ে যেতে হবে।

    নিয়মিত কাজে যুক্ত হতে সাহায্য করুন

    অফুরন- অলস সময় রিকভারীর জন্য ক্ষতিকর। চিকিৎসা শেষে খানিকটা শুরুতে সহনীয় চাকরীই সহায়ক হবে। এবিষয়ে তার সঙ্গে আলাপ করুন। জানতে চান তার পরিকল্পনা কি। চাকুরী খুঁজতে উদ্যোগী হতে উৎসাহিত করুন। এক্ষেত্রে আরো কিছু প্রয়োজন হলে তাকে সাহায্য করুন। আর সে যদি ছাত্র হয় তাহলে পড়ালেখাতে আবারো নিয়মিত হয়ে উঠতে ভূমিকা রাখুন। আপনার সাহায্য তাকে পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ করে তুলবে।

    ভালো বন্ধু তৈরীতে সাহায্য করুন

    রিকভারীকে নেশাগ্রস’ বন্ধুদের এড়িয়ে চলতে হয়। অনৈতিক জীবন যাপনে অভ্যস- বন্ধুরাও তাকে অসি’র জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তাই তাদেরকে এড়িয়ে চলা দরকার। এব্যাপারে আপনার রিকভারী সদস্যকে সচেতন করুন। সতর্ক থাকুন এধরনের বিপজ্জনক সঙ্গীরা যেন ফোনে বা বাসায় এসে আড্ডা জমাতে না পারে।
    তাকে ভালো বন্ধু গড়তে সাহায্য করুন। তার জন্য ভালো কোন সঙ্গী হতে পারে এমন কারো কথা আপনার জানা থাকলে তাকে বাসায় ডাকতে পারেন। রিকভারীর সঙ্গেও আলাপ করে দেখুন কাদের সে পছন্দ করে। তবে নিশ্চিত হোন যাদের কথা সে বলছে তারা নেশা বা খারাপ কোন কাজে জড়িত কিনা।

     

    কঠোরতাও প্রয়োজন

     

    অনেক সময় অভিভাবকের কোমল প্রশ্রয় রিকভারীর জন্য সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। সেক্ষেত্রে কঠোর ও দৃঢ় মনোভাবই কাম্য। এরকম কিছু দৃষ্টান- নীচে আলোচনা করা হলো।

    অজস্র প্রাপ্তি

    পরিবারের সদস্য চিকিৎসা শেষ করেছে, অনেক অভিভাবক তাতেই এমন অভিভূত হয়ে পড়েন যে, তাকে কিছু দেবার জন্য ব্যতিব্যস- হয়ে ওঠেন। না চাইতেই এরকম প্রাপ্তি তাকে বেশ আত্মগর্বী করে তুলতে পারে। কয়েকদিন নেশা বন্ধকেই সে চূড়ান- সাফল্য ধরে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লিপ্ত হতে পারে, যা তাকে নেশায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

    দাবী আর দাবী

    আভিভাবক হয়তো দরকারী কিছু ছাড়া দিচ্ছেন না, কিন’ রিকভারী সদস্যটির চাওয়ার কোন শেষ নেই। চিকিতসা নেবার আগে থেকে হয়তো তার অনেক দাবী ছিল, চিকিৎসা শেষে তা আরো বেড়েছে। যদি এসব দাবী সঙ্গত না হয়, তাকে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলুন। দাবীর কাছে নতিস্বীকার করবেন না।

    শুরুতেই টাকা

    মাত্র চিকিতসা শেষ হওয়া কোন রিকভারীর জন্য টাকা-পয়সা বহন করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এক্ষেত্রে যথাসম্বব সতর্ক থাকুন। শুরুতে তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আপনিই কিনে দিন। ‘পকেটে টাকা ছাড়া ফাঁকা ফাঁকা লাগছে’-এমন অজুহাত আমল দিবেন না।

    About The Author

    Sheikh Heera is a freelance web application developer, currently living with parents and two yonger sisters in Sylhet, Bangladesh and working with Halal IT (As a Programmer) and Protisruti Drug Rehabilitation Center (As a Founder Member and Director, since 2004).

  • ইকবাল হোসেন

    মাদকাসক্তি চিকিৎসায় পারিবারিক সচেতনতা যেহেতু অন্যতম প্রধান গুরুত্ত পূর্ণ বিষয় সেহেতু সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করার জন্য ধন্যবাদ । – ইকবাল হোসেন
    চিফ এক্সিকিউটিভ
    বন্ধন
    মাদকাসক্তি চিকিৎসা সহায়তা ও পূনর্বাসন কেন্দ্র
    কুষ্টিয়া
    ০১৭২৮-৪৪৭৬১৭